চীন আবারো শিক্ষা ক্ষেত্রে এক দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নিয়েছে , প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে হাই স্কুল পর্যায় পর্যন্ত চালু করা হবে বাধ্যতামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিক্ষা। এটি কেবল একটি নতুন বিষয় নয়, বরং আগামী প্রজন্মকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিতে স্বাচ্ছন্দ্য দিতে পাতানো এক “স্বর্ণ চাবি”।
আজ যখন আমরা ভাবছি, শিশুরা তো আগে ABC শিখবে, তখন পৃথিবীর অন্য প্রান্তে ৬ বছরের শিশুরা Artificial Intelligence (AI) শেখা শুরু করছে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন, চীন তাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বিশাল পরিবর্তন আনছে। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত AI শিক্ষাকে তারা বাধ্যতামূলক করতে চলেছে।
এটি শুধু একটি শিক্ষানীতি নয়, এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি প্রস্তুত হওয়ার সংকেত।
কেন এই সিদ্ধান্ত এত গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আজকের AI শুধু একটি প্রযুক্তি নয়, এটি Math বা English-এর মতোই একটি অপরিহার্য দক্ষতা, একটি নতুন ভাষা।
চীনের শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, AI হলো: “Golden Key to the Future” — ভবিষ্যতের সোনার চাবি।
অন্যান্য মৌলিক বিষয়ের মতোই AI-কে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ করার প্রধান কারণ হলো, ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা। যারা এই দক্ষতা নিয়ে বড় হবে, তারা নেতৃত্ব দেবে আগামী দিনের উদ্ভাবনে।
হাতে-কলমে কী শিখবে এই প্রজন্ম?
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু তত্ত্বীয় জ্ঞান নয়, বরং হাতে-কলমে বাস্তব প্রযুক্তির ব্যবহার শিখবে। তারা শিখবে:
সহজ রোবট পরিচালনা: বেসিক রোবটিক্সের ধারণা এবং ছোট রোবট তৈরি ও নিয়ন্ত্রণ।
বেসিক প্রোগ্রামিং: সমস্যা সমাধানের জন্য যুক্তিভিত্তিক কোডিংয়ের প্রাথমিক জ্ঞান।
AI কীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কাজ করে, ডেটা বিশ্লেষণ করে এবং কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তার মূল ধারণা।
Automation এবং বাস্তব প্রযুক্তির ব্যবহার: দৈনন্দিন জীবনের কাজে স্বয়ংক্রিয়তা (Automation) আনতে এবং বাস্তব প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে শেখা।
অর্থাৎ, এই শিক্ষা শিক্ষার্থীদেরকে শুধুমাত্র কৌতূহলী করে তুলবে না, বরং প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যার সমাধানকারী (Problem Solver) হিসেবে গড়ে তুলবে।
ভাবুন, দুই শিশু। তাদের দুজনেরই প্রতিভা আছে, কিন্তু তাদের শেখার পথ ভিন্ন।একজন বড় হচ্ছে সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থায়। তার শেখা সীমাবদ্ধ বই, নোট আর পরীক্ষার মধ্যে। সে প্রযুক্তির ব্যবহার জানে, কিন্তু তা কীভাবে তৈরি হয়, তা জানে না।
অন্যদিকে আরেকজন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকতে থাকতে সে বানাবে ছোট রোবট, কণ্ঠ চিনতে পারা AI টুল, এমনকি Automation প্রোজেক্ট।
আজ যখন সে YouTube-এ “How to build a robot” সার্চ করছে, আরেকজন তখন তার নিজের বানানো AI-কে বলছে: “Turn on smart watering mode.” তার বাগানে থাকা সেন্সর মাটির আর্দ্রতা বুঝে পানি দেয়া শুরু করবে। এটাই ভবিষ্যত। এবং ভবিষ্যত অপেক্ষা করে না। যে জাতি আগে প্রস্তুত হবে, তারাই নেতৃত্ব দেবে।
তাহলে আমরা কী করব?
বিশ্ব যখন তার শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুন করে সাজাচ্ছে, তখন আমাদেরও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়া অত্যাবশ্যক। আমরা যদি চাই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, তাহলে এখনই সময়: বাচ্চাদের শুধু বই নয়, বাস্তব দক্ষতা শেখানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া। Programming, Robotics এবং AI-কে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করা।
শেখাকে ভয় নয়, খেলার মতো করে, মজার উপায়ে, বাস্তব জীবনের সাথে যুক্ত করে উপস্থাপন করা।
আপনি বাবা-মা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক বা প্রযুক্তিপ্রেমী, যেই হোন না কেন, এই প্রশ্নটি এখনই করা উচিত: “আমরা কি ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত?”
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে এবং বাংলায় Robotics, Programming, AI এবং Future Skills শেখার সহজ রিসোর্স পেতে আজই আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন।